Opens in a new tab
সর্বশেষ

ওমানে নতুন উদ্যোগে প্রবাসীরা খুশি হলেও রয়েছে দুশ্চিন্তা

Oman probasi woekerWeb Popup (3)

ওমানে প্রবাসী কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চাকরি শেষে প্রাপ্য সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। এন্ড-অফ-সার্ভিস গ্র্যাচুইটির (End-of-service gratuity) বিকল্প হিসেবে আগামী ২০২৭ সালের জুলাই মাস থেকে নতুন ‘সেভিংস স্কিম’ বা সঞ্চয় প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে। ওমানের সোশ্যাল প্রটেকশন ফান্ডের (এসপিএফ) অধীনে আগামী ১৯ জুলাই ২০২৭ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মে নিয়োগকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যেক কর্মীর মূল বেতনের ৯ শতাংশ অর্থ এই তহবিলে জমা দিতে হবে। নতুন এই সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করেছেন ওমানে কর্মরত প্রবাসী কর্মীরা, কারণ এর ফলে কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে বা হঠাৎ চাকরি চলে গেলে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারানোর আর কোনো ভয় থাকবে না।

দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীরা তাদের চাকরি শেষের পাওনা বা গ্র্যাচুইটি নিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। বিনোদ পারাক্কাত নামের এক প্রবাসী সেলস ম্যানেজার জানান, তিনি তার অনেক বন্ধুকে দেখেছেন যাদের কোম্পানি কোনো পাওনা না দিয়েই চাকরি থেকে ছাঁটাই করেছে। অন্যদিকে, ১২ বছর ধরে ওমানে কর্মরত মোহাম্মদ মোস্তফা নামের আরেক প্রবাসী তার এক বন্ধুর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, চাকরি পরিবর্তনের সময় তার বন্ধুর আগের কোম্পানি পরে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আর দেয়নি। পরবর্তীতে কোম্পানিটি দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেলে ওই কর্মীর সারা জীবনের সঞ্চয় চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে। নতুন এই সেভিংস স্কিমের ফলে এ ধরনের আর্থিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে বলে মনে করছেন সাধারণ কর্মীরা।

নতুন এই নিয়মে এসপিএফ-এর অধীনে কর্মীদের মাসিক সঞ্চয় এবং এর বিনিয়োগ লভ্যাংশ সোশ্যাল প্রটেকশন আইন অনুযায়ী প্রদান করা হবে। তবে ২০২৭ সালের ১৯ জুলাইয়ের আগে অর্জিত গ্র্যাচুইটির হিসাব সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালিত হবে। এক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা চাইলে কর্মীর চাকরি শেষ হওয়া পর্যন্ত ওই অর্থ নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন, স্কিম শুরু হলে কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে পারবেন অথবা সরাসরি কর্মীর এসপিএফ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারবেন। যদি কোম্পানি অর্থ নিজেদের কাছে রাখে, তবে চাকরি শেষে ওই সময়ের মূল বেতন অনুযায়ী তা হিসাব করে পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে নতুন এই সঞ্চয় প্রকল্প প্রবাসী কর্মীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করে তাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি মজবুত আর্থিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)