কুয়েত সিটির ফারওয়ানিয়া গভর্নরেটে সাধারণ বাসযাত্রীদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে আটকের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই তিন ব্যক্তিই বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিক এবং তাঁরা বেশ কিছুদিন ধরে গণপরিবহনে সাধারণ যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুয়েতের জেলিব আল-শুয়ুখ পুলিশ স্টেশনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এই চক্রটিকে আটক করা হয়। মূলত স্থানীয় একটি গণপরিবহন কোম্পানির টিকিট পরিদর্শকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। ওই পরিদর্শক নিরাপত্তা বাহিনীকে জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের পরিচালিত বাসগুলোতে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছ থেকে বারবার ছিনতাই ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছিল, যা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ওই এলাকার বাস রুটগুলোতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনী। যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে বাসের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। সেই ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরেই সন্দেহভাজন ওই তিন ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে নগদ ৩৩৩ কুয়েতি দিনার উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ডাকাতি বা ছিনতাই করা অর্থ বলেই পুলিশের ধারণা।
আরও
গ্রেপ্তারকৃত ওই তিন বাংলাদেশি প্রবাসী এবং তাঁদের কাছ থেকে জব্দকৃত অর্থ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানিয়েছে, প্রবাসীদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা রুখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে এ ধরনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চুরি-ছিনতাই বা যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি নম্বর ১১২-এ কল করে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।











