ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা কমিয়ে পুনরায় সংলাপ শুরুর পথ তৈরি করতে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী কয়েক জন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। কাতার মনে করে, যেকোনো ধরনের মতপার্থক্য নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। অন্যদিকে ইরানও এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বৈঠকে কাতারের মধ্যস্থতা উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এর আগে গত জুনে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক সমঝোতা হলেও জুলাইয়ে তা ভেঙে যায় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রায় ছয় মাসে গড়ালেও স্থায়ী কোনো কূটনৈতিক সমাধান এখনো অধরা। এরই মধ্যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে একে ‘রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর মতো জরুরি পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হবে। বিশ্ববাজারের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি সরবরাহ রুটটি পুরোপুরি চালুর বিষয়ে ইরানের শর্ত হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ করা সম্পদ ছাড়তে হবে; যদিও সম্প্রতি ওমানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে তেহরান। এ ছাড়া সংঘাতের অচলাবস্থা কাটাতে সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও তেহরান সফর করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে গড়ালে তা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, আর সেই গভীর আশঙ্কা থেকেই আঞ্চলিক দেশগুলো এখন জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।









