মুন্সিগঞ্জে বাসা থেকে এক কাজিকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কাজি মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ চাঁদাবাজির ওই দুই লাখ টাকাও উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, নৈতিক স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত ওই নেতাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে যুবদল।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শহরের কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা কাজি হাবিবুর রহমানকে (৫২) সোমবার বেলা দুইটার দিকে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নেন যুবদল নেতা রাজিব হোসেন, তাঁর বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন। তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে আসামিরা তাঁকে প্রথমে তাঁর কার্যালয়ে এবং পরে জোরপূর্বক শহরের অদূরে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজির লাইসেন্স বাতিল ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন তাঁরা। প্রাণভয়ে তিনি চাঁদা দিতে রাজি হলে আসামিরা তাঁকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক শাখায় নিয়ে যান। সেখানে ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা তুলে স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে আসামিদের হাতে তুলে দেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান।

আরও
ভুক্তভোগীর ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, ভয়ে তাঁর বাবা প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাতে চাননি। রাতে ঘটনাটি বিস্তারিত জানার পর তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। পরে যুবদল নেতা রাজিব হোসেন থানায় এসে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে পুলিশের সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার করা হয়। নাহিদ অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত দেওয়ার পর ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং মামলা করলে পরিবার বিপদে পড়বে বলেও ভয় দেখানো হয়। তিনি বলেন, একটি সাংবাদিক পরিবারের সঙ্গেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। তিনি রাজিবসহ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ও তাদের আশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন জানান, কাজিকে জিম্মি করে চাঁদাবাজির ঘটনায় রাজিবসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে সোমবার দিবাগত রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পলাতক বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের সুস্পষ্ট দায়ে রাজিব হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।










