সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিরসন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে প্রস্তাবিত শান্তি বৈঠকে বসতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সাংবাদিকদের জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে রিয়াদ এই বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও হুতিরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ক্রিমলি জানান, হুতিদের সঙ্গে সৌদির সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে এবং ওমান এখানে মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং কেবল আলোচনার আয়োজক হিসেবে ভূমিকা রাখছিল। তিনি আরও জানান, উত্তেজনা বাড়ার শুরুতেই হুতিদের মাস্কাটে বৈঠকে বসার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। এটাই ছিল তাদের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ। অন্যদিকে, সংঘাত অবসানে ইরান ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও তেহরানের কাছে কোনো মধ্যস্থতার অনুরোধ জানায়নি রিয়াদ।
এদিকে, রিয়াদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি হুতিদের হামলা ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ‘আল-মাশিক’ লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রের এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তারা অক্ষত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর দুজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরার সাংবাদিক ইউসুফ মাওরি জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে সানা দখলের পর এডেনে স্থানান্তরিত সরকারের সদর দফতর লক্ষ্য করে হুতিদের এ ধরনের হামলা এটাই প্রথম, যা পরিস্থিতিকে সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আরও
শুধু ইয়েমেনের ভেতরেই নয়, সৌদি আরবেও হামলা জোরদার করেছে হুতিরা। সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত ১১ দিনে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ২০ বার হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। এছাড়া তেল স্থাপনা ও বন্দরেও হামলা হয়েছে, যাতে ১৭ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার দাবি করেছে জোট। শুক্রবারও সৌদি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে জোট বাহিনী, অন্যদিকে তাইজ শহরের দক্ষিণে হুতি অবস্থানে দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
আরও দেখুন










