Opens in a new tab
সর্বশেষ

প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি বেয়ে উঠে নামাজ পড়ান সিবগাতুল্লাহ

B3aa9521daa3f7b1879af7a3b392c318 6ad2512262573Web Popup (3)

প্রতিদিন খাড়া ও দুর্গম পাহাড়ি পথ বেয়ে পাঁচ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে এক ঐতিহাসিক মসজিদে পৌঁছান সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ নামের এক তুর্কি ইমাম। তাঁর গন্তব্য উসমানীয় আমলের ঐতিহাসিক ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত সুলাইমান খান মসজিদ। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিয়ে মসজিদে আজান দেওয়া, নামাজের ইমামতি করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়াই তাঁর প্রতিদিনের কাজ। গত পাঁচ মাস ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

পূর্ববর্তী কর্মজীবনে ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং স্থানীয় মুফতি কার্যালয়ের অধীন পাঁচ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিলমেজের। আতাতুর্ক সাংস্কৃতিক উদ্যান থেকে শুরু করে পাথুরে দুর্গের চূড়ায় পৌঁছানোর এই পথটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর হলেও নিজের দায়িত্ব নিয়ে তিনি দারুণ সন্তুষ্ট। তিনি জানান, স্বেচ্ছায় ও আগ্রহ নিয়ে কাজ করায় এই ক্লান্তিকেও তিনি উপভোগ করেন। নিয়ম অনুযায়ী জোহরের আগেই পাহাড়ি পথ বেয়ে তিনি মসজিদে পৌঁছে যান এবং মাগরিবের নামাজ শেষে নিচে নেমে আসেন। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এশা ও ফজরের সময় সাধারণ মুসল্লিদের যাতায়াত সম্ভব হয় না বলে ওই দুই ওয়াক্তে সেখানে জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।

ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এই মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল জানা না গেলেও ইতিহাস বলে, ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান সুলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট এটি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর মাত্র তিন বছর আগে স্থাপনাটি পুনরায় সংস্কার করে মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে দুর্গ দেখতে আসা পর্যটকদের কাছে মসজিদটি এক বিশেষ আকর্ষণ। সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ কেবল ইমামতিই করেন না, বরং আগত দর্শনার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং প্রাচীন ভান নগরী, উরার্তু সভ্যতার ঐতিহাসিক দুর্গ ও এই মসজিদের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরেন।

প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নানা দেশের পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিলমেজের ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতারও অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। বর্তমানে তিনি অনায়াসেই বিদেশি দর্শনার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইসলাম ও এর ঐতিহ্য সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। অক্লান্ত এই যাত্রার পর দুর্গের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে তাঁর সব শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। দর্শনার্থীদের ভালোবাসা ও দোয়াই তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করেন এই সাহসী ইমাম।

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)