Long Popup (2)
সর্বশেষ

ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি ট্রাম্পের

Usa iran talkProbashircityWebPopupUpdate

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সাম্প্রতিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার পর থেকেই ওই অঞ্চলে নতুন করে বৈরিতা শুরু হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তবে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির দম্ভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম ও আগের চেয়ে অনেক উন্নতমানের অস্ত্র রয়েছে। বিশ্বজুড়ে থাকা আধুনিক সামরিক ঘাঁটিগুলোর সবটুকু সক্ষমতা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

কৌশলগত এই আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের অবরোধ ভাঙতে এবং আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পথ দেখাতে সোমবার থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের নির্দেশনায় একটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই সামরিক তৎপরতার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। এই প্রকল্পের আওতায় প্রণালিটিতে মার্কিন টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের সাতটি ছোট নৌকা গুলি করে ডুবিয়ে দিয়েছে।

‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ওয়াশিংটন নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইতিমধ্যে দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে প্রণালিটি পার হতে সহায়তা করেছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লাইভ তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তাহীনতার কারণে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ যাতায়াত এখনো অনেকাংশেই স্থগিত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় বর্তমানে ৮৭টি ভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, চলমান এই সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মাঝে এই দেশগুলোর নিরীহ জাহাজগুলো সম্পূর্ণ ‘নিরপরাধ দর্শক’ হিসেবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

অবরুদ্ধ এই বৈশ্বিক বাণিজ্য পথটি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনী এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এক বিবৃতিতে অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, গত ১২ ঘণ্টায় সেন্টকম কয়েক ডজন আটকে পড়া জাহাজ এবং শিপিং কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে, যাতে তারা নির্ভয়ে পুনরায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত শুরু করতে উৎসাহিত হয়। তিনি আরও জানান, সংকীর্ণ এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার যে লক্ষ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের রয়েছে, সামরিক বাহিনী সে অনুযায়ীই কাজ করে যাচ্ছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ সামরিক আশ্বাসের পর আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বা তারা আদৌ জাহাজ চলাচলে ভরসা পাচ্ছে কি না, তা এখনো সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate