আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান একটি প্রমোদতরীতে বিরল রোগ ‘হান্টাভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বয়স্ক এক দম্পতিসহ ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও অন্তত তিনজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে অন্তত একজনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের ওই ডাচ প্রমোদতরীটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের রাজধানী প্রেইয়ার উপকূলে নোঙর করা আছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা জাহাজটিতে থাকা যাত্রীদের চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা দিচ্ছে। ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পাশাপাশি বিস্তারিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও মহামারি সংক্রান্ত তদন্ত চলছে। পর্যটন সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিশেষায়িত এই প্রমোদতরীটিতে ঘটনার সময় প্রায় দেড় শ পর্যটক এবং সত্তর জনের মতো ক্রু ছিলেন।
ভাইরাসের প্রথম শিকার হন ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। জাহাজেই তার মৃত্যু হয় এবং ওই ব্যক্তির স্ত্রী নেদারল্যান্ডসে ফেরার জন্য উড়োজাহাজে ওঠার চেষ্টাকালে বিমানবন্দরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে কাছের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। এদিকে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন আরেক ব্রিটিশ নাগরিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগ।
আরও
দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যবিভাগ আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছে। সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মলমূত্র থেকে হান্টাভাইরাস ছড়ায়। গত বছর বিখ্যাত মার্কিন অভিনেতা জিন হ্যাকম্যানের স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে রোগটি নতুন করে আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, এই ভাইরাস মারাত্মক শ্বাসকষ্ট বা ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ সৃষ্টি করতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।










