দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আর্থিক সংকট এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিজেদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইনস ‘স্পিরিট’। গতকাল শনিবার (২ মে) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। টানা লোকসান ও পর্বতসম ঋণের চাপে জর্জরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো তারা। ঘোষণার পরপরই এয়ারলাইনসটির পূর্বনির্ধারিত সব ফ্লাইট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
হঠাৎ করে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়া যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। স্পিরিট এয়ারলাইনস জানিয়েছে, যেসব যাত্রী ইতিমধ্যে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে যাঁদের জরুরি ভ্রমণ প্রয়োজন, তাঁদেরকে বিকল্প হিসেবে দ্রুত অন্য কোনো এয়ারলাইনসে টিকিট বুক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয় এই উড়োজাহাজ সংস্থার আকস্মিক বন্ধের ঘোষণায় সাধারণ যাত্রীদের মাঝে সাময়িক বিভ্রান্তি ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
ফ্লোরিডাভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক টানাপোড়েন বেশ পুরোনো। এর আগে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই দফা নিজেদের ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু সম্প্রতি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক বাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় তাদের সেই শেষ প্রচেষ্টাও চরমভাবে ব্যর্থ হয়। মূলত জ্বালানি খরচের লাগাম টানতে না পারা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে।
আরও
ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন স্পিরিট এয়ারলাইনসকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে ৫০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ দিতে চেয়েছিল। তবে ঋণের কঠিন শর্ত ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত পুনর্গঠন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় সেই সরকারি সহায়তা ভেস্তে যায় এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধই হয়ে গেল। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা ‘স্পিরিট’ দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কম খরচে বিমান ভ্রমণের জন্য সাধারণ যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম ছিল।










