Opens in a new tab
সর্বশেষ
ব্রেকিং

ভূমধ্যসাগর থেকে প্রাণে বেঁচে লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আশিক

Ashiq tells a thrilling story of surviving the Mediterranean SeaWeb Popup (3)

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পূর্ব লওখণ্ডা গ্রামের যুবক আশিক মিনা অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। গত ১৫ নভেম্বর লিবিয়া থেকে যাত্রা শুরুর পরপরই ঘটনাটি ঘটে। একই গ্রামের দুই যুবক মারা যান এবং পাঁচজন নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে আশিক মিনা গুরুতর আহত অবস্থায় দেশে ফিরে এসেছেন। নৌকাডুবিতে তাঁর এক হাত ও এক পা ভেঙে গেছে।

আশিক জানান, উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যান। এরপর মিসর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে প্রায় এক মাস অবস্থানের পর ১৫ নভেম্বর রাত ৮টার পর ৭০ বাংলাদেশি এবং আরও পাঁচজন মিসরীয়কে নিয়ে ইতালাগামী নৌকা রওনা দেয়। লিবিয়ান কোস্টগার্ড তাদের নৌকায় গুলি চালায় এবং পরে জাহাজ দিয়ে নৌকাটি ধাক্কা দিলে তা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তিনি বলেন, “দেশে আর ফিরতে পারব—এমন আশা তখন আর ছিল না।”

আশিকের মা রওশন আরা বেগম জানান, তিন ছেলের মধ্যে আশিকই ছোট। তাঁর উন্নত জীবন গড়ার আশায় জমি বিক্রি ও ধার–দেনা করে গ্রামেরই আকুব আলীর হাতে ২১ লাখ টাকা তুলে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা গ্রামের দুই ভাই—এনামুল ও হযরত—দালালচক্রের মূল হোতা, আর আকুব আলী তাদের সহযোগী হিসেবে গ্রামের যুবকদের অবৈধ পথে ইতালি পাঠানোর জন্য টাকা লেনদেন করতেন।

রওশন আরা আরও বলেন, “আমাদের কন্ট্রাক্ট ছিল ছেলেকে ইতালি পৌঁছে দেবে। পরে খবর পেলাম নৌকাডুবিতে নিখোঁজ। কয়েকদিন পর লিবিয়ার একটি হাসপাতাল থেকে অন্যের মোবাইল দিয়ে খবর আসে ছেলেটি জীবিত।” তিনি জানান, অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেও ছেলের ফিরে আসাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

এ ঘটনায় দালালচক্রের মূল অভিযুক্ত দুই ভাই ও আকুব আলীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুকসুদপুর থানার সিন্দিয়ারঘাট নৌ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)