Opens in a new tab
সর্বশেষ

ভারতে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকে চড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

PanjabWeb Popup (3)

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের জলন্ধরে অবস্থিত লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সংরক্ষিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৩ইউএম যুদ্ধবিমান ও সামরিক ট্যাংকের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে ছাত্রীদের হোস্টেলের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গতকাল রোববার সকালে ফাগওয়ারায় অবস্থিত এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকা এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন এবং এতে ক্যাম্পাসের কোনো নির্মাণশ্রমিক জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এরপর ওই ছাত্রী নিজের বাড়িতে ফিরে যান। বহিরাগতদের হাতে ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা দাবানলের মতো রূপ নেয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ভবনের কাচ, ফুলের টব ও ক্যাম্পাসের কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করছেন। এমনকি ক্যাম্পাসের ভেতরের কয়েকটি জায়গায় আগুন ধরিয়ে দিতেও দেখা যায় তাঁদের।

প্রথম দিকে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও পরে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় তারা। জলন্ধর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) নবীন সিংলা জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জবানবন্দি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করার জন্য ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার (এসপি) মেজর সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। ডিআইজি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন রেকর্ড বিশ্লেষণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি ছাত্রপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়েই এই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে কাপুরথলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব তুরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, ছাত্রী ধর্ষণের এই অভিযোগ ও গুঞ্জন পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে এলপিইউয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমানে যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু সমাজবিরোধী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে। তাই অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে এসব গুজবে কান না দিয়ে কেবল দাপ্তরিক বার্তার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে এলপিইউ প্রশাসন।

আরও দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup