কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাইঝি পরিচয়ে খোদ স্ত্রীকেই পাত্রপক্ষের সামনে হাজির করতেন স্বামী! বিয়ের পর সুযোগ বুঝে নববধূর বেশে থাকা সেই স্ত্রী শ্বশুরবাড়ির নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালাতেন। অভিনব এই প্রতারণাচক্রের মূল হোতা ওই দম্পতিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। এক ভুক্তভোগী বরের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামলে স্বামী-স্ত্রীর এই প্রতারণার অদ্ভুত গল্প প্রকাশ্যে আসে।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেগঙ্গার এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। ঘটকের মাধ্যমে সন্ধান পেয়ে এক যুবতীকে পছন্দ করেন তিনি। মাসখানেক আগে একটি মন্দিরে তাঁদের বিয়েও সম্পন্ন হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিয়ের সময় পাত্রীর একমাত্র অভিভাবক ও চাচা পরিচয়ে উপস্থিত থেকে কন্যা সম্প্রদান করেছিলেন খোদ ওই নারীর আসল স্বামী। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন পরই নতুন বরের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তিনি নিজে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, মন্দিরে যাকে তিনি বিয়ে করেছেন, তিনি আগে থেকেই বিবাহিত এবং ওই ‘চাচাশ্বশুর’ আসলে তাঁর আসল স্বামী। এমনকি ওই দম্পতির বিবাহিত দুই মেয়েও রয়েছে।
এই অভাবনীয় সত্য সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে পাঠালে তাঁরা প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে ভুক্তভোগী বর দেগঙ্গা থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাঁদের আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তেরা শেষমেশ স্বীকার করে নেন যে, তাঁরা সম্পর্কে চাচা-ভাইঝি নন, বরং স্বামী-স্ত্রী।
আরও
পুলিশ জানিয়েছে, এই দম্পতি এর আগেও একই কৌশল ব্যবহার করে একাধিকবার প্রতারণা করেছেন। প্রতিবারই বিয়ের পর পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও গয়না নিয়ে তাঁরা চম্পট দিতেন। তবে লোকলজ্জার ভয়ে এর আগে কোনো ভুক্তভোগী পুলিশের দ্বারস্থ হননি। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ওই দম্পতিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিতে বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করেছে পুলিশ।










