ভারতের উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে সরকারি ডাকবাংলো বা সার্কিট হাউসের চত্বরে নামাজ পড়ার অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির এক জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। জনসাধারণের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি এবং বিরক্তি উৎপাদনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই এফআইআর করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় অভিযুক্ত ওই নেতার নাম হাজী মোহাম্মদ উসমান। তিনি সমাজবাদী পার্টির মোরাদাবাদ জেলা শাখার সহসভাপতি এবং বিলারি আসনের বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে তাঁকে একটি পার্ক করা গাড়ির সামনে নামাজ পড়তে দেখা গেলেও, সেখানে জনচলাচল বা যানবাহনের কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টির দৃশ্য দেখা যায়নি।
জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের সঙ্গে দলীয় এক বৈঠকে অংশ নিতে ওই দিন সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন হাজী মোহাম্মদ উসমান। মোরাদাবাদে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই মামলাটি দায়ের করেছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই নেতা সার্কিট হাউসের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথে গাড়ি পার্ক করে তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন, যা মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, ভিডিওতে আশপাশের সব গাড়িই পার্ক করা অবস্থায় ছিল এবং সেখানে নামাজের কারণে অন্য কারও চলাচলে বাধা সৃষ্টির কোনো প্রমাণ মেলেনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি স্থাপনার ভেতরে নামাজ পড়ার ওই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় বজরং দলের রাজ্য সভাপতি রোহান সাক্সেনা সরকারি চত্বরে নামাজ পড়ার অনুমতি নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ সরকার রাস্তায় বা প্রকাশ্যে নামাজ আদায়কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি ভবনের ভেতরে নামাজ পড়ার ওপর এমন কোনো সুস্পষ্ট আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।
আরও
এদিকে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ পড়ার কারণে মুসলিম নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপের সঙ্গে সাম্প্রতিক কানওয়ার যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছৃঙ্খলতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরবতার বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কানওয়ার যাত্রীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অশালীন আচরণের সুস্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেয়নি, যা আইনের দ্বৈত প্রয়োগকে সামনে নিয়ে এসেছে।











