Opens in a new tab
সর্বশেষ

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী প্রদেশে ভারতীয় বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

Iaf crash 1781335385 (1)Web Popup (3)

বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতের আসাম রাজ্যে দেশটির বিমানবাহিনীর একটি আন্তোনভ এএন-৩২ (AN-32) পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রানওয়েতে অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাঁটির অভ্যন্তরে ভূপাতিত হয় এবং এর পরপরই সেটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এই দুর্ঘটনায় কোনো পাইলট বা ক্রু হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। দুর্ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

Bvnews 24 AN 32

বিধ্বস্ত হওয়া আন্তোনভ এএন-৩২ মূলত একটি দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে তৈরি এই মডেলটিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘ওয়ার্কহর্স’ বা প্রধান ভরসার পরিবহন যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে ভারতের সামরিক বহরে এ রকম প্রায় ১০০টি বিমান কার্যকর রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও উষ্ণমণ্ডলীয় চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার উপযোগী করে এই বিমানের নকশা করা হয়েছে। এটি একসঙ্গে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ টন মালামাল, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন সশস্ত্র প্যারাট্রুপার বহনে সক্ষম। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সামরিক রসদ ও জনবল সরবরাহে এই বিমানগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আসামের জোরহাট ঘাঁটি কেন্দ্রিক সামরিক বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চ মাসে এই একই বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি সুখোই সু-৩০এমকেআই (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান নিয়মিত পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় বিধ্বস্ত হয়েছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুই আসনবিশিষ্ট ওই যুদ্ধবিমানটি পরে জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যুদ্ধবিমানটির দুই পাইলটই নিহত হয়েছিলেন। পরপর এমন দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর রুটিন ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)