ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুর দেহাত জেলায় এক যুবক তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সাবেক শাশুড়িকে বিয়ে করেছেন। এই অনভিপ্রেত বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি কানপুর দেহাতের আকবরপুর এলাকার। জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবক তাঁর ৫২ বছর বয়সী শাশুড়ির সঙ্গে সম্প্রতি রেজিস্ট্রি করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতের সুবাদেই শাশুড়ির সঙ্গে ওই যুবকের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে তাঁদের মধ্যে এই প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি ২৭ বছর বয়সী স্ত্রীর নজরে এলে পরিবারের মধ্যে চরম অশান্তি দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর নিন্দুকদের সমালোচনা, পরিবারের প্রবল আপত্তি এবং সামাজিক বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে শাশুড়ি ও জামাই একসঙ্গে বাড়ি ছাড়েন এবং আদালতের মাধ্যমে আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

আরও
বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর এই দম্পতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ‘দ্য তত্ত্ব’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গলায় ফুলের মালা পরে এবং হাতে বিয়ের আইনি কাগজপত্র নিয়ে আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ওই যুবক ও তাঁর সাবেক শাশুড়ি। ভিডিও বার্তায় এই দম্পতি নেটিজেনদের কাছে তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া ও আশীর্বাদ করার আবেদন জানান। পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি লাখ লাখ দর্শক দেখেছেন এবং ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; কেউ কেউ এটিকে দুজনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় বললেও অনেকেই চরম নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে তীব্র সমালোচনা করছেন। আকবরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারমিত সিং জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তাঁদের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকেই থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।










