কুমিল্লায় পারিবারিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে মো. জাকির হোসেন নামের এক লন্ডন প্রবাসীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলার শিকার জাকিরের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সূচনা আক্তার বাদী হয়ে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের ৭ নম্বর আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। জাকির জেলার বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি দক্ষিণ ইউনিয়নের বালুয়া গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ লন্ডনে বসবাস করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, একই এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া, লেদা মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলাম, গেদা মিয়ার ছেলে মনির হোসেন, হারুন উদ্দিনের ছেলে জালাল মিয়া এবং জোহর আলীর ছেলে বোরহান উদ্দিন। তারা বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও সরকার পতনের পর থেকে এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত রয়েছেন।
আরও
বাদী পক্ষের আইনজীবী আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বরুড়া থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুলাল ও একই এলাকার লেদা মিয়ার ছেলে জহির এবং মনিরসহ বেশ কয়েকজন সরকার পতনের পর থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছেন। ভিকটিম জাকির হোসেন ১০ বছর ধরে সপরিবারে লন্ডনে বসবাস করেন। কয়েকদিন আগে তিনি দেশে আসেন। দেশে এসেই নিজ বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের জন্য একটি পারিবারিক ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ায় এলাকার দুলাল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন প্রবাসী জাকিরকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতে থাকেন।
১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় শিলমুড়ি বাজারে কেনাকাটা করতে যান জাকির। এ সময় দুলাল মিয়া তাকে দেখে দৌড়ে এসে আমাকে দাওয়াত দিলি না কেন- বলেই পাশে থাকা একটি ইট দিয়ে জাকিরের মাথায় আঘাত করেন। এ সময় দুলালের সহযোগী হিসেবে জহির, মনির, জালাল ও বোরহান উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন দেশিয় অস্ত্রসহ ভিকটিম জাকিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে চলে যান। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী জাকির হোসেনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সূচনা আক্তার বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন খুবই সাংঘাতিক। ঘটনার পর থেকে আমরা এলাকা ছাড়া। পলাতক থেকে মামলাটি করেছি। আমার ভাসুরকে মেরে রক্তাক্ত করে তার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্তদের মুঠোফোনে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তারা মোবাইল সংযোগ কেটে দেন। পরে আর ফোন তোলেননি।
বরুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, আমি বরুড়া থানায় নতুন যোগদান করেছি। আদালতের তদন্তের নির্দেশ থানায় এসে পৌঁছে থাকলে সঠিক তদন্ত করে তার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।











