উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে মেক্সিকোতে পাড়ি জমিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের তরুণ মুহিবুর রহমান। কিন্তু ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় সেই স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। একপর্যায়ে দালালের প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে যোগ দেন তিনি এবং সর্বশেষ ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান। সোমবার (২০ এপ্রিল) তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইকবাল আহমদ।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মুহিবুর রহমান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের মসুদ মিয়ার ছেলে। উন্নত ভবিষ্যতের আশায় মেক্সিকোতে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে তাঁর ভিসা বাতিল হয়ে গেলে জীবন ও ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এই অসহায় ও সংকটময় মুহূর্তেই তাঁকে টার্গেট করে আন্তর্জাতিক একটি দালাল চক্র।
ইউপি সদস্য মো. ইকবাল আহমদ পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, মেক্সিকোতে আটকা পড়া মুহিবুরকে দালালরা প্রলোভন দেখায় যে, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে তাঁকে মোটা অঙ্কের বেতন দেওয়া হবে এবং যুদ্ধ শেষে দেওয়া হবে দেশটির স্থায়ী নাগরিকত্ব। ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার আশায় দালালদের সেই ফাঁদে পা দেন তিনি। এরপর চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ায় গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন রুশ বাহিনীর হয়ে লড়াই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর।
আরও
জানা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে একটি বাংকারে অবস্থান করছিলেন মুহিবুর। এ সময় ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিক্ষিপ্ত একটি ড্রোন ওই বাংকারের ওপর আঘাত হানলে সেটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। রুশ সেনাদের জন্য খাবার সরবরাহকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিহত তরুণের পরিবারের কাছে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি প্রথম পৌঁছায়। তবে ঠিক কবে বা কখন তিনি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।









