মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার সংক্রান্ত অপরাধে তদন্তের মুখে থাকা এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগের জেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ২৭ দিনের মাথায় বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি পদ ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিতর্কিত ব্যবসায়ী দীপক ভট্টের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সুদান গুরুং জানান, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি লেখেন, “মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে যেন কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত না বাধে এবং পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব না পড়ে, সে জন্য আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।” দেশে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে চলমান ‘জেনজি’ (GenZ) আন্দোলনের বার্তা অনুধাবন করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর কাছে পদের চেয়ে নৈতিকতা এবং জন-আস্থার মূল্য অনেক বেশি।
অবশ্য এর আগে গত সোমবারও ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গুরুং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তথ্যকে গুজব থেকে আলাদা করার ওপর জোর দিয়ে বলেছিলেন, অভিযোগ আর সত্য এক জিনিস নয়; সিদ্ধান্ত হয় প্রমাণের ভিত্তিতে, আবেগে নয়। সে সময় তিনি তাঁর দলের নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেওয়া এবং যেকোনো তদন্তে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও, শেষ পর্যন্ত দেশজুড়ে চলা তীব্র বিতর্কের মুখে নৈতিকতার প্রশ্নে পদত্যাগের পথেই হাঁটতে বাধ্য হন তিনি।
আরও
সুদান গুরুংয়ের এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গত ২৭ মার্চ দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের মন্ত্রিসভা থেকে দ্বিতীয় কোনো সদস্যকে সরে যেতে হলো। এর আগে ক্ষমতায় বসার দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই দলীয় শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তামন্ত্রী দীপক কুমার সাহকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ পদের অপব্যবহার করে স্ত্রীকে স্বাস্থ্য বিমা বোর্ডের সদস্য হিসেবে বহাল রাখার দায়ে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) প্রধান রবি লামিছানের আনুষ্ঠানিক সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁকে পদচ্যুত করা হয়েছিল।










