বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মো. রাকিব (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে রামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাজারের পোস্ট অফিস–সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ কোম্পানির কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত। গ্রেপ্তার হওয়া রাকিব নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজেন্দ্রপুর বড় কান্দাজ বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাকিব ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে কাজের সুবাদেই ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে রাকিব ওই গৃহবধূর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই জঘন্য সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি গোপনে ভুক্তভোগী ওই নারীর আপত্তিকর ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন এবং পরবর্তী সময়ে তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন।
ব্ল্যাকমেইলের একপর্যায়ে অভিযুক্ত তরুণ গোপনে ধারণ করা ওই আপত্তিকর ভিডিও ভুক্তভোগী নারীর প্রবাসী স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় ও হুমকি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এত টাকা নেওয়ার পরও রাকিব ক্ষান্ত হননি; সম্প্রতি তিনি ওই গৃহবধূর কাছে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুমকি দেন।
আরও
নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাকিবকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র্যাব-১১, সিপিসি-৩–এর কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে ইতিমধ্যে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।











