সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের সশরীর ক্লাসের বদলে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আজ রোববার কর্তৃপক্ষের আকস্মিক এক নির্দেশনার পর স্কুলগুলো ই-মেইল করে অভিভাবকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির দেখা দুটি পৃথক ই-মেইলে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ামাত্রই স্কুলগুলো এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহ রিমোট লার্নিং বা দূরশিক্ষণের মাধ্যমে পাঠদান চলবে।
হঠাৎ নেওয়া এমন সিদ্ধান্তে রিয়াদে বসবাসকারী অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক এএফপিকে বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত যখন পুরো স্কুল কমিউনিটির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, তখন এর পেছনের কারণ সম্পর্কে জানার অধিকার পরিবারগুলোর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন ছিল। রিয়াদে বসবাসকারী এক লেবানিজ প্রবাসীও এই আকস্মিকতায় হতাশা প্রকাশ করে জানান, শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্তে তাঁরা বেশ বিভ্রান্ত এবং বাস্তবে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণাই নেই।
স্কুল বন্ধের আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো না হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাত্র এক দিন আগেই ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, তারা সৌদি আরব লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। গত জুলাইয়ে কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এমনকি এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে সার্বিক এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে স্কুল বন্ধের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
আরও
সূত্র: এএফপি










