সর্বশেষ

২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া নাগরিকদের ধূমপান নিষিদ্ধ

98096fca6a991712e368efca070fe96bfb0910770a92d86aProbashircityWebPopupUpdate

আগামী প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চিরতরে রক্ষার্থে একটি যুগান্তকারী বিল পাস করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। নতুন এই আইনের আওতায় দেশটিতে ২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া যেকোনো ব্যক্তির কাছে সব ধরনের তামাকজাত পণ্য বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে (হাউস অব কমন্স ও হাউস অব লর্ডস) দীর্ঘ আলোচনার পর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে রাজকীয় অনুমোদন (রয়্যাল অ্যাসেন্ট) পেলেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে।

মূলত একটি ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ‘টোব্যাকো অ্যান্ড ভ্যাপস বিল’ বা তামাক ও ভ্যাপ বিলটি আনা হয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি যুক্তরাজ্যজুড়ে কখনোই বৈধভাবে সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন না। ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা আশা করছেন, এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে কালক্রমে দেশটিতে তামাকজাত পণ্যের বিক্রি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে তরুণেরা আজীবনের জন্য নিকোটিন আসক্তির চক্র ও এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।

যুক্তরাজ্যে ধূমপানের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুধু ইংল্যান্ডেই ধূমপানজনিত কারণে প্রতিবছর প্রায় চার লাখ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় এবং প্রাণ হারান অন্তত ৬৪ হাজার মানুষ। ক্যানসার ও হৃদ্‌রোগের মতো তামাকজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সেবাকে (এনএইচএস) বছরে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করতে হয়। এ ছাড়া ধূমপানের কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়ায় প্রতিবছর দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১.৩ থেকে ২৭.৬ বিলিয়ন পাউন্ড বলে অনুমান করা হয়।

নতুন এই বিল পাস হওয়াকে দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যাবিষয়ক মন্ত্রী (হেলথ সেক্রেটারি) ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের শিশুরাই হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের অংশ, যারা আজীবনের আসক্তি ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই যুগান্তকারী সংস্কার কেবল লাখো মানুষের জীবনই বাঁচাবে না, বরং এনএইচএসের ওপর চাপ কমিয়ে একটি সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর ব্রিটেন গড়ে তুলতে সরাসরি সহায়তা করবে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate
ProbashircityWebBannerUpdate