ওমান উপকূলে একটি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই হামলায় সরাসরি গুলির আঘাতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে এমন হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইউকেএমটিও-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থানরত ওই জাহাজটির খুব কাছাকাছি আইআরজিসির একটি গানবোট চলে আসে। এরপর কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই সরাসরি জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ লক্ষ্য করে তীব্র গুলি চালানো হয়। তবে এই হামলায় জাহাজের কোনো নাবিক হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হামলার বিষয়ে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও জাহাজটি কোনো সাড়া দেয়নি। তাই ‘সমুদ্র আইন’ বা মেরিটাইম ল অনুযায়ী ওই জাহাজের বিরুদ্ধে আইআরজিসি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, ইরান সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাবতীয় অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখবে এবং এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজকেই লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
আরও
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শত্রুপক্ষ যদি এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন করে কোনো হামলা শুরু করে, তবে তারাও পাল্টা চরম আঘাত হানতে পিছপা হবে না।








