যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়তুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর নিজেদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করেছে ইরান। দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ইতিমধ্যে এই নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নতুন নেতার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজের বরাত দিয়ে বিশেষজ্ঞ পরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য আহমাদ আলামোলহোদা জানিয়েছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এখনো কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞ পরিষদের সচিবালয়ের প্রধান হোসেইনি বুশেহরির ওপর এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নেতার নাম ঘোষণার দায়িত্ব ন্যাস্ত রয়েছে।
নতুন নেতার পরিচয় নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও বেশ কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন খুজেস্তান প্রদেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের আরেক সদস্য মোহসেন হায়দারি। আইএসএনএ সংবাদ সংস্থাকে তিনি জানান, প্রয়াত নেতার পরামর্শ মেনেই এমন একজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাঁকে শত্রুরা প্রশংসা নয়, বরং ঘৃণা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘বড় শয়তান’ ইতিমধ্যে সেই নেতার নাম উল্লেখ করেছে। উল্লেখ্য, ৮৮ জন প্রবীণ ধর্মীয় নেতার সমন্বয়ে গঠিত এই পরিষদ মূলত জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকে এবং সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বা শূন্যতায় নতুন উত্তরাধিকারী নির্বাচনের দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়।
আরও
নতুন এই নেতা নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে আয়তুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি মার্কিন প্রশাসনের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নন। অন্যদিকে ইসরায়েল আগে থেকেই কড়া হুমকি দিয়ে রেখেছে যে ইরানে যাকেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হোক না কেন, তাঁকেই তারা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকেই মূলত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।











