বাংলাদেশিদের বিদেশগমন জটিল হয়ে পড়ছে দিন দিন। একাধিক দেশে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনসহ নানা খাতে প্রবাসী সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডে ব্যবসায়িক ভ্রমণ করতে চাওয়া এক বাংলাদেশির ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়ার ঘটনা এ সমস্যাকে আরও স্পষ্ট করেছে। পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, গত দুই-আড়াই বছর ধরে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, বিশেষত সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশে।
গত বছরের আগস্টে ভারত সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দিলে জটিলতা আরও বেড়ে যায়। এখন কেবল চিকিৎসা ও সীমিত ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বেশ কিছু দেশে, কারণ পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশের ভিসার জন্য দিল্লিতে গিয়ে আবেদন করতে হয়। ভারতীয় ভিসা না থাকায় শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা সমস্যায় পড়ছেন। এমনকি বেলজিয়ামের ভিসাও সম্প্রতি দিল্লি থেকে ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশিদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে ভিসা সেন্টার ঢাকা বা নিকটবর্তী কোনও দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো অগ্রগতি নেই। বিকল্প হিসেবে কিছু দেশের ভিসা অন্য দেশের দূতাবাস থেকে নেওয়ার সুযোগ রাখা হলেও তা সময়সাপেক্ষ ও সীমিত। এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১২ সাল থেকে কাজের ভিসা কার্যত বন্ধ। বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটি বারবার ভিসা কঠোর করেছে।
আরও
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভিসা জটিলতার বড় কারণ ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়া, ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে না ফেরা এবং ভিজিট ভিসা নিয়ে তৃতীয় দেশে চলে যাওয়া। এ কারণে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া কড়াকড়ি বাড়িয়েছে, এমনকি কিছু দেশ ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, মিসর অন-অ্যারাইভাল ভিসা দিলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ও উন্নত দেশের বৈধ ভিসা থাকার মতো নতুন শর্ত যুক্ত করেছে।
কাজের ভিসার ক্ষেত্রেও একাধিক দেশে সীমাবদ্ধতা জারি আছে। বাহরাইন, মালয়েশিয়া, ইতালি ও ওমানসহ কয়েকটি দেশে শ্রমবাজার আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ। তবে ওমান সম্প্রতি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ কিছু পেশাজীবীকে ছাড় দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ভিসা প্রদান প্রত্যেক দেশের নিজস্ব নীতি ও সার্বভৌম বিষয়। বাংলাদেশ নিয়মিত তাগিদ দিলেও দ্রুত সমাধান পাওয়া কঠিন বলেই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।












