সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাউল শিল্পীদের নিয়ে করা নিজের ভাইরাল ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার। এর আগে তিনি গণমাধ্যমে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, নারী বাউল শিল্পীরা প্রায়ই আয়োজকদের কাছ থেকে কুপ্রস্তাব পান এবং ‘বেডে’ বা বিছানায় না গেলে অনেক সময় তাঁদের গানের অনুষ্ঠান দেওয়া হয় না। তাঁর ওই বিস্ফোরক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাউল অঙ্গনসহ দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এই বিতর্কের মাঝেই সম্প্রতি এক নতুন ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন হাসিনা সরকার। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তাঁর আগের বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও লজ্জিত। এ সময় তিনি তাঁর হতাশার পেছনের কিছু কারণ উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, মিরপুরে কিছু লোক এসে তাঁর একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি শুধুমাত্র ‘হাসিনা সরকার’ নাম হওয়ার কারণে তাঁকে বিভিন্ন গানের মঞ্চ থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি গুরুতর দাবি করেন।
এই শিল্পী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, অনেক জায়গায় বলা হয়েছে যে হাসিনা সরকার নামে কোনো শিল্পী আর কোথাও গান গাইতে পারবেন না। শিল্পীদের ক্লাব থেকে তাঁকে গানের প্রস্তাব দেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে সেই সুযোগ অন্য শিল্পীদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত এসব বঞ্চনার কারণে চরম কষ্ট ও হতাশা থেকে তিনি আগের ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, “রাগের মাথায় বলেছিলাম, যার সঙ্গে যার লিংক থাকে, তাদের অনুষ্ঠান দেওয়া হয়। আমার সঙ্গে কারও সম্পর্ক না থাকায় আমাকে ডাকা হয় না—ঢালাওভাবে এটা বলা আমার ভুল হয়েছে।”
আরও
ভিডিও বার্তায় হাসিনা সরকার আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে কিছু অদক্ষ শিল্পী সহজেই অনুষ্ঠান পেয়ে যাচ্ছেন, অথচ প্রকৃত ও গুণী বাউল শিল্পীরা অনেক সময় চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন। তবে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁর ব্যবহৃত শব্দচয়নে বাউল অঙ্গনের কোনো সহশিল্পী বা শুভানুধ্যায়ী যদি সামান্যতম কষ্টও পেয়ে থাকেন, তবে সবার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। সবশেষে সব বাউল শিল্পীর উদ্দেশে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সবাই যেন তাঁর এই ভুলটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে তাঁকে আগের মতোই আপন করে আগলে রাখেন।










