চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ভাত খাওয়ার সময় গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মানিক আবদুল্লাহ (৩৬)। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গরিব উল্লাহপাড়া গ্রামের ভান্ডারি কলোনির একটি বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবারের সময় ১২ থেকে ১৫ জনের একটি মুখোশধারী দল বাসায় ঢুকে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
নিহত মানিক স্থানীয়ভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর পরিবারের দাবি, একই দলের প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার আগে তাকে একাধিকবার হুমকি ও হামলার শিকার হতে হয়েছিল বলে জানান নিহতের ছোট ভাই সাকিল আহমেদ।
নিহতের পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকার পর গত বছর অক্টোবরে মানিক দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। শনিবার রাতে গ্রামে বেড়াতে এসে স্থানীয় এক যুবদল কর্মীর সঙ্গে ওই বাসায় খাবার খেতে বসেছিলেন। ঠিক সেই সময় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা অতর্কিতে হামলা চালায়।
আরও
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শটগানের দুটি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। মানিককে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন—তিনি অপহৃত হয়েছেন, নাকি পালিয়ে গেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যাকারীরা সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে এবং শিগগিরই মামলা গ্রহণ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।










