নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর আড়ালিয়া ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি গ্রামে মুক্তি পাগলীর মাজারকেন্দ্রিক ওরস নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জানুয়ারি) রাতে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রোববার রাত ৮টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকা অবস্থায়:
আরও
চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ।
মিটিং, মিছিল বা সমাবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
লাঠি, দেশীয় অস্ত্র, ধারালো ছুরি, টেঁটা বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা যাবে না।
নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তি পাগলীর মাজারে প্রায় ৭৫ বছর ধরে ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলতি বছরের ৫, ৬ ও ৭ জানুয়ারি তিন দিনব্যাপী ওরস আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে মাজারে ওরস আয়োজনের বিরোধিতা করে স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, বিশেষ করে মাওলানা আনিসুর রহমান ও মাওলানা ওমর মোল্লার নেতৃত্বে কিছু ধর্মীয় নেতা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, এই ঘোষণার পাল্টা প্রতিরোধের ডাক দেয় ওরস আয়োজক কমিটি। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মতো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী জানান, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে এই আদেশ তুলে নেওয়া হবে।”
এলাকায় ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জারি রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমন পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে শান্তি বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।










