মালয়েশিয়ায় উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে যেতে ইচ্ছুক হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এখন থেকে মালয়েশিয়াগামী সাধারণ কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিকেল টেস্টের ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে পদে পদে সাধারণ কর্মীদের আর্থিক হয়রানির শিকার হওয়ার পথ অনেকটাই বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, মেডিকেল টেস্টের জন্য নির্ধারিত এই ৮ হাজার টাকার বাইরে কোনোভাবেই অতিরিক্ত এক টাকাও নেওয়া যাবে না। মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মী ভাইদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে কাউকে বাড়তি টাকা না দেন। একই সঙ্গে দালাল চক্র বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত না হওয়ার জন্য সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই দালালের প্রলোভনে পা না দেন, সে বিষয়েও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্দিষ্ট কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির অধীনে এককভাবে কাজ করতে পারবে না। মালয়েশিয়ার জন্য নির্বাচিত যেকোনো কর্মী সরকার অনুমোদিত যেকোনো মেডিকেল সেন্টারে স্বাধীনভাবে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। অনেক সময় দেখা যায়, এক এজেন্সির মাধ্যমে মেডিকেল স্লিপ করার পর কর্মী অন্য এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমন পরিস্থিতিতে আগের এজেন্সিকে বিনা ওজরে এবং কোনো ধরনের দেরি না করে দ্রুত ওই কর্মীর মেডিকেল রিপোর্ট হস্তান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্লিপ প্রদানকারী এজেন্সির কোনো টালবাহানা বা আপত্তি কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি মাইগ্রামস (migrams) স্লিপের জন্য কোনো ফি বা টাকা লাগবে না বলেও পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও
যদি কোনো অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার বেশি অর্থ দাবি করে কিংবা সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের হয়রানি, টালবাহানা বা ঝামেলা করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবগত করতে বলা হয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মীরা সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ইমেইলে ([email protected]) অভিযোগ জানাতে পারবেন।
আজ শনিবার থেকেই মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য অনুমোদিত সেন্টারগুলোতে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, এর আগে করানো কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা মালয়েশিয়া গমনের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্যও তা বিবেচিত হবে না। সরকার মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত ও কঠোরভাবে মনিটর করবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










