সৌদিতে বাংলাদেশি কর্মীদের নির্যাতন, শোষণ ও রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শারীরিক নির্যাতনের বাইরেও কর্মক্ষেত্রে বেতন আটকে রাখা, অতিরিক্ত খাটুনি, খাবার না দেওয়া এবং পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা সেখানে নিত্যদিনের। সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

দেশটিতে সবচেয়ে অমানবিক শোষণের শিকার হচ্ছেন নারী কর্মীরা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, অনেক নারী সন্তান কোলে দেশে ফিরছেন, অথচ তাঁরা জানেনই না এই সন্তানের প্রকৃত বাবা কে। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা সেখানে অহরহ ঘটছে। ব্র্যাকের তথ্যমতে, গত এক দশকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ১০ হাজার নারী দেশে ফিরেছেন, আর অনেকের ফিরেছে নিথর দেহ। অথচ এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বা দায় নির্ধারণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
আরও
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই সৌদি থেকে প্রায় ২ হাজার কর্মীর মরদেহ দেশে এসেছে। বর্তমানে সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। কর্মী সুরক্ষার প্রশ্নে শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো দেশ নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেও, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কোনো দৃশ্যমান অবস্থান বা প্রতিবাদের নজির নেই।










