সৌদি আরবের আবহা শহরে সোহাগ রানা (৪২) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় তিন দিন পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ শয়নকক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। মৃত সোহাগ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বশির উল্যাহর ছেলে। আকামা ও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক চাপ ও হতাশায় ভুগছিলেন দুই কন্যাসন্তানের এই জনক। আজ শুক্রবার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার থেকে সোহাগ তাঁর কর্মস্থলে যাননি। শুরুতে সহকর্মীরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো অসুস্থ। কিন্তু টানা তিন দিন দোকানে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর কফিল (নিয়োগকর্তা) ও সহকর্মীরা সোহাগের বাসায় যান। সেখানে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে অনেক ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়।
মৃত সোহাগের মামাতো ভাই প্রবাসী সৈয়দ রিগান জানান, সোহাগ ৭ বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি দুবাইয়ে থাকতেন। কয়েক মাস ধরে তাঁর আকামা ও পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় সেটি নবায়নের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কাজ না হওয়ায় তিনি প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় ছিলেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে স্ট্রোক করে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। বর্তমানে সোহাগ রানার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার।
আরও
https://www.youtube.com/watch?v=QjlGw283fXs











