Long Popup (2)
সর্বশেষ

ধারাবাহিক হামলার মুখে অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে সৌদি আরব

1785401471 c488c338c9761421b0d847afdba963b5ProbashircityWebPopupUpdate

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই চলমান সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আসছিল সৌদি আরব। তবে তিন দিক থেকে ধারাবাহিক হামলার মুখে পড়ে এবার আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এই দেশটি। চলতি সপ্তাহে ইরান–সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে রিয়াদ। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই গোষ্ঠীগুলোই মূলত ড্রোন হামলার মাধ্যমে দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণে সৌদি আরবের এই পরিবর্তিত দৃশ্যপট ও আঞ্চলিক সংকটের কথা উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—হামলার জবাবে আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, নাকি উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে রয়েছে ইরান ও দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের মিত্র হিসেবে আছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং বিভিন্ন মাত্রায় সৌদি আরব, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র ও জর্ডান। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে তারা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুতিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে না চাওয়ার পেছনে সৌদি আরবের বড় ধরনের অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। দেশটির কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘ভিশন ২০৩০’–এর মাধ্যমে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে শিল্প, প্রযুক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। নতুন শিল্পাঞ্চল, ডেটা সেন্টার ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু ইয়েমেন থেকে হুতিদের ড্রোন হামলা কিংবা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের স্থায়ী হুমকি সেই পরিকল্পনার জন্য বড় বাধা হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় কয়েক দিনের জন্য দেশটির প্রায় অর্ধেক তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়েও স্যাটেলাইট চিত্রে আবকাইক স্থাপনায় নতুন করে হামলার আলামত দেখা গেছে, যার পেছনে ইরাকি মিলিশিয়াদের হাত রয়েছে বলে রিয়াদের অভিযোগ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করে রপ্তানির চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু সেই বিকল্প পথও এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে সৌদি–সমর্থিত বাহিনীর হামলার পর পাল্টা জবাবে হুতিরা আবহা ও জিজান আঞ্চলিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এরপর তারা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলও লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করে। দীর্ঘ সাত বছর সামরিক অভিযান চালিয়েও হুতিদের পরাজিত করতে পারেনি সৌদি আরব। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরে ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠী এবং দক্ষিণে হুতিদের একযোগে হামলার মুখে সৌদি আরব এখন এমন এক ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে, যা দেশটির মহৎ প্রকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের পথে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate