সৌদি আরবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১১ হাজার ২৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ৯ হাজার ৫৭৬ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের খবর অনুযায়ী, গত ৭ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও অংশ নেয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ হাজার ৮৬৫ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে, ৩ হাজার ৩১৯ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে এবং ১ হাজার ৩৯২ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিজ দেশে বহিষ্কারের আগে ২ হাজার ৩১১ জনকে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য তাঁদের নিজ নিজ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ১১ হাজার ২২৬ জনের ভ্রমণ বুকিং সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও শেষ করা হয়েছে। এর বাইরে সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি, ৬০ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।
এদিকে অবৈধভাবে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টার সময় আরও ৫৮ জনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, পরিবহন বা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ২৬ হাজার ৬৩২ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৫ হাজার ৫৯ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৫৭৩ জন নারী রয়েছেন।
আরও
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন, আশ্রয় বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি এসব অবৈধ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয়স্থলও বাজেয়াপ্ত করা হবে। যেকোনো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিতে মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ৯১১ নম্বরে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।









