Opens in a new tab
সর্বশেষ

ওমানে জাদু দিয়ে টাকা দ্বিগুণ করেন ৩ প্রবাসী!

HV3 NpHbMAAlWOxWeb Popup (3)

ওমানে জাদুকরী উপায়ে রাতারাতি টাকা দ্বিগুণ করার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ওমানি রিয়াল হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি। অভিনব এই প্রতারণার অভিযোগে তিন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ। পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি) সম্পূর্ণ আলাদা দুটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের আটক করতে সক্ষম হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে বোকা বানিয়ে চোখের পলকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছিল সংঘবদ্ধ এই চক্রটি।

গ্রেপ্তারকৃত এই প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ওমানের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে আসছিল। তারা মূলত সহজ-সরল ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস করাত যে, তাদের কাছে জাদুর মাধ্যমে টাকা বহুগুণ বৃদ্ধির এক বিশেষ গোপন কৌশল রয়েছে। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা অনেক সময় বিশেষ একধরনের কেমিক্যাল বা কালো কাগজের বান্ডিল ব্যবহার করে মানুষের চোখের সামনেই আসল টাকা বানানোর ভুয়া ভেলকি দেখাত। সাধারণ মানুষ তাদের এই অভিনব কৌশল দেখে মুগ্ধ হয়ে যেত এবং রাতারাতি বড়লোক হওয়ার লোভে পড়ে নিজেদের কষ্টার্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ নিশ্চিন্তে তাদের হাতে তুলে দিত। এরপর সুযোগ বুঝে পুরো টাকা নিয়ে চম্পট দিত এই ধুরন্ধর প্রতারকেরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রয়্যাল ওমান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই চক্রের গতিবিধির ওপর দীর্ঘদিন ধরে গভীর নজরদারি চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে তথ্য-প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর দুটি পৃথক স্থানে সুপরিকল্পিত ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, আটকের সময় এই প্রতারক চক্রের গোপন আস্তানা থেকে জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের চাঞ্চল্যকর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভুয়া টাকা বানানোর কাজে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের তরল পদার্থ বা কেমিক্যাল এবং বেশ কিছু রহস্যময় বাক্স উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করেই তারা নিরীহ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে বোকা বানাত।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে যেকোনো ধরনের আর্থিক প্রতারণা বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। এ ধরনের গুরুতর অপরাধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধীদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। সেই সঙ্গে গুনতে হয় বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও। সাজার মেয়াদ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর এসব অপরাধীকে নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ডিপোর্ট বা আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়, যাতে তারা আর কখনোই ওমানের মাটিতে পা রাখতে না পারে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর রয়্যাল ওমান পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এমন ভুয়া ও জাদুকরী প্রলোভন থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেউ এমন প্রতারণার শিকার হলে বা আশপাশে সন্দেহজনক কিছু দেখলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup