সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরান থেকে ধেয়ে আসা অন্তত দুটি ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) সফলভাবে ভূপাতিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। আমিরাতের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই ড্রোন দুটিকে ধ্বংস করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আমিরাতের আকাশসীমায় সরাসরি ইরান থেকে আসা ড্রোনের এই অনুপ্রবেশ ও তা নস্যাৎ করার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার এই দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, রাডারে ড্রোন দুটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং সফলভাবে সেগুলোকে ধ্বংস করে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ড্রোন ধ্বংসের এই খবরের পাশাপাশি ওই বিবৃতিতে ইরানের দিক থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক প্রকাশ্য হামলাগুলোর একটি সামগ্রিক ও উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তাব্যবস্থার চিত্র প্রতিফলিত করে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের এই প্রকাশ্য হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপুলসংখ্যক আক্রমণ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে মোট ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ইউএভি বা ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ আক্রমণ নস্যাৎ করার দাবি প্রমাণ করে যে, আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে; তবে একই সঙ্গে এটি ওই অঞ্চলে ইরানের সামরিক তৎপরতার ব্যাপকতা ও হামলার মাত্রাকেও স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
আরও
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান এবং এর প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ভূ-রাজনৈতিক, কৌশলগত ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারাও আমিরাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাদের পেছনে ইরানের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে আমিরাত ও তার মিত্ররা। তবে সরাসরি ইরান থেকে আমিরাতের আকাশসীমায় এ ধরনের ড্রোন ধেয়ে আসা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা ধ্বংস করার ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও বেশি অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে গভীরভাবে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।





![]](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/05/unnamed-file.webp)


![]jkhgg](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/05/jkhgg.webp)
