উপসাগরীয় দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার প্রচলিত নীতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আয়োজিত ‘হিলি ফোরাম’-এ দেওয়া এক বক্তব্যে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এমন মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর সঙ্গে কৌশলগত মিত্রতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু বর্তমান পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তা আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক ও কৌশলগত আত্মনির্ভরশীলতাই উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলটি দশকের পর দশক ধরে মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও অন্যান্য অতিজরুরি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্ররা এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এর আগে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া রোধে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর জোরালো ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গত এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও শেষ পর্যন্ত তা টিকতে পারেনি, যা এই অঞ্চলের ভঙ্গুর নিরাপত্তাকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রায় এক মাসের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর গত এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত মাঝে কিছুদিন স্তিমিত থাকলেও, তা এখন পুনরায় চরম আকার ধারণ করেছে। সংঘাত নিরসনে এর মধ্যে একাধিকবার কূটনৈতিক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। পরাশক্তিগুলোর এই লড়াইয়ের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় এক শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজস্ব বলয়ে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিচ্ছে কাতার।










