Long Popup (2)
সর্বশেষ

এবার জোট করতে ইরানকে ডেকেছে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

OLD DESING (9) originalCity

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক অভাবনীয় মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ যোগ দেওয়ার জন্য ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যদিও জোটভুক্ত তিন দেশ বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এটি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ইরানের পার্লামেন্টের নিজস্ব সংবাদ সংস্থা খানে মিল্লাতের প্রধান মেহেদী রহিমি জানিয়েছেন, এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তেহরান ইতিমধ্যে একটি আমন্ত্রণপত্র পেয়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন।

Resize 600x315x1x0 image 1061

গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই সামরিক জোটের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও গভীর সামরিক সহযোগিতা; যেখানে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জোটের যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই সম্মিলিত হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই নীতিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিখ্যাত ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর সঙ্গে তুলনা করে জানিয়েছেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনার জন্য নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব সুরক্ষার জন্য একটি মজবুত প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করবে। চুক্তির পর থেকেই দেশগুলো নিয়মিত বৈঠক, যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজন ও প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজস্ব শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়ের দাবি জানিয়ে আসা ইরানের জন্য এই আমন্ত্রণকে একটি বিশাল কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১০ আগস্ট ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এই জোট গঠন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে একে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত ইরানের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সৌদি-ইরান বৈরী সম্পর্কের বরফ গলে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে সামরিক সখ্য নতুন এক যুগের সূচনা করবে, যা ভবিষ্যতে মিসরের মতো অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate