আকস্মিক ড্রোন হামলায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে। দেশের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা বেশ কয়েকটি শত্রু ড্রোন মোকাবিলায় এরই মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে কুয়েতের সামরিক বাহিনী। অনাকাঙ্ক্ষিত এই হামলার পরপরই দেশজুড়ে সামরিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অতর্কিত ড্রোন হামলার জন্য সরাসরি ‘ইরানি আগ্রাসন’–কে দায়ী করেছে। তারা বলছে, এই ধরনের অনুপ্রবেশ কেবল কুয়েতের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘনই নয়, বরং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশে ড্রোন ধ্বংস করার কারণে যেসব প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি মূলত নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সফল তৎপরতারই অংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই কুয়েতের আকাশে এই ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কুয়েত সব সময় ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে। তবে সরাসরি ইরানকে দায়ী করার এই বিরল ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কৌশলগত এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে গভীর শঙ্কা তৈরি করতে পারে।










