তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় ইরানের কাস্পিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং উড়োজাহাজ জব্দ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে উড্ডয়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতির ঠিক আগমুহূর্তে আদালতের আদেশে বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি আটকে দেন কর্মকর্তারা। তবে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন, ইরানের এয়ারলাইনসগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে এই জব্দের কোনো সম্পর্ক নেই।
উড্ডয়ন স্থগিত হওয়ার পর উড়োজাহাজটি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত কাস্পিয়ান এয়ারলাইনসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই ইস্তাম্বুল থেকে তেহরানগামী ফ্লাইট পরিচালনায় এই সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। তবে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরকে পরিষেবা বাবদ বকেয়া থাকা ৩০ লাখ ইউরো পরিশোধে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত উড়োজাহাজটি ইরানে ফিরে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তবে এ ঘটনা নিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি যোগাযোগ করলেও তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ঘোষণায় সতর্ক করা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান ইরানের এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তারা ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। যদিও তুরস্ক এখনো মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করেনি এবং ইরান এয়ারসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন অব্যাহত রেখেছে। তবে আঙ্কারার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারী পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান সংস্থা মহান এয়ার তুরস্কে তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।










