উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের পথে পা বাড়িয়েছিলেন তাঁরা। তবে ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ আর অনিরাপদ রাবারের নৌযানের এই ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রায় স্বপ্ন নয়, সঙ্গী হয়েছিল মৃত্যুভয়। ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই গত এক সপ্তাহে মিসরের বিভিন্ন উপকূল থেকে অন্তত ১৬০ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মিসরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া এসব বাংলাদেশির মধ্যে মাতরুহ উপকূল থেকে ৪৬ জন, পোর্ট সাইদ থেকে ৫৮ জন এবং দামিয়েত থেকে ৫৬ জন রয়েছেন। এসব অভিযানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সুদান ও মিসরের নাগরিকদেরও উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাঁরা দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন।
পরপর কয়েকটি ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উদ্ধারের খবরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের ব্যস্ততা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দিতে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের এখন অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। প্রথমে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করা হচ্ছে। এরপর তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য মিসরের পুলিশ, অভিবাসন বিভাগ, কারা কর্তৃপক্ষ, আদালত ও হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দূতাবাস।
পরিবারের ভাগ্যবদলের আশায় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ নৌযানে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার এই প্রবণতা নতুন নয়। তবে ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর এসব মানুষের অনেকেই শেষ পর্যন্ত ফিরে আসছেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে। চরম অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এই অবৈধ অভিবাসনের ফলে স্বপ্নের ইউরোপের বদলে এখন এক ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রার স্মৃতি নিয়ে শূন্য হাতে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন উদ্ধার হওয়া এই ১৬০ বাংলাদেশি।









