অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাণ্ডব চলাকালে ইসরায়েলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করে; উল্টো চিকিৎসাকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়। বৈশ্বিক চাপের মুখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘বিশৃঙ্খলাকারীদের কাজ’ আখ্যা দিয়ে শাস্তির কথা বললেও, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো হামলাকারীদের কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই লোকদেখানো নিন্দার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের রাষ্ট্রীয় এজেন্ডা আড়াল করা এবং সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি বিদ্রোহ ঠেকানো। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা চিরতরে নস্যাৎ করতে ইসরায়েল সরকার সেখানে পরিকল্পিতভাবে বসতি সম্প্রসারণ করছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৩ সালে ওই অঞ্চলে ইসরায়েলিদের সংখ্যা আড়াই লাখ থাকলেও, বর্তমানে বিপুল সরকারি বাজেটের সহায়তায় নতুন নতুন আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে তা সাত লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ প্রকাশ করেই দায় সারছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই দৃশ্যমান নীরবতা ও কঠোর পদক্ষেপহীনতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল প্রশাসন নির্বিঘ্নে তাদের আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের উৎসব অব্যাহত রেখেছে।











