সামরিক বাহিনীর কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী কুচকাওয়াজ বা পাসিং আউট প্যারেড যেকোনো সেনাসদস্যের জন্যই এক মাহেন্দ্রক্ষণ। জীবনের এই বিশেষ দিনটিতে সদ্য উত্তীর্ণ সেনাদের অভিনন্দন জানাতে উপস্থিত থাকেন তাঁদের পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনেরা। সবার চোখেমুখে থাকে বাঁধভাঙা আনন্দ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার একটি সামরিক প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে দেখা গেল এক ভিন্ন ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সমবয়সী সহকর্মীরা যখন আপনজনদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠেছেন, তখন এক তরুণ সেনাসদস্যকে দেখা গেল একেবারে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে। জীবনের এত বড় একটি অর্জনের দিনে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে সেখানে পরিবারের কেউই উপস্থিত ছিলেন না।
সবার আনন্দের ভিড়ে একাকী দাঁড়িয়ে থাকা ওই তরুণের বিষণ্ণ চেহারা নজর এড়ায়নি তাঁর ঊর্ধ্বতন কমান্ডারের। দূর থেকে বিষয়টি খেয়াল করে তিনি ওই সেনাসদস্যের কাছে এগিয়ে যান। এরপর কোনো কথা না বাড়িয়ে পরম মমতায় তাঁকে নিজের বুকে জড়িয়ে নেন। পরিবারের অনুপস্থিতির চাপা কষ্ট আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন আকস্মিক স্নেহপূর্ণ আলিঙ্গনে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি ওই তরুণ। মুহূর্তের মধ্যেই কমান্ডারের কাঁধে মাথা রেখে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর আপনজনদের কাছে না পাওয়ার বেদনা যেন একসঙ্গে অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে।
সামরিক বাহিনীর কঠোর অনুশাসন ও নিয়মানুবর্তিতার আড়ালে একজন কমান্ডারের এমন মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণের ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একাকিত্বের একটি বিষাদময় মুহূর্তকে তিনি যেভাবে সমমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত করেছেন, তা নেটিজেনদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, কমান্ডারের এই সামান্য ভালোবাসা ও সমর্থন ওই সেনাসদস্যের জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হয়ে থাকবে। মানুষের জীবনের যেকোনো কঠিন লড়াই শেষে এমন একটু সহমর্মিতা সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।











