Opens in a new tab
সর্বশেষ

কাবু হচ্ছে না ইরান, হামলার নতুন কৌশল খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র!

ScreenshotWeb Popup (3)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এবার নতুন ও অপ্রচলিত কৌশলের খোঁজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথাগত সামরিক পদক্ষেপের বাইরে গিয়ে নতুন বা সৃজনশীল কোনো ধারণা পাওয়া যায় কি না, তা জানতে চেয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে একটি ইমেইল বার্তা পাঠানো হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বুধবার এই বার্তা পাঠান। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, আভিযানিক সাফল্য নিশ্চিতে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা কাজে লাগানোর দীর্ঘ ইতিহাস মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইমেইলের মাধ্যমে এভাবে নতুন ধারণা আহ্বান করার বিষয়টি বেশ অস্বাভাবিক। মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজের শর্তে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে চাইছেন। কিন্তু তার সামনে থাকা বিকল্পগুলো যে বেশ সীমিত, এটি তারই ইঙ্গিত দেয়। এমন এক সময়ে এই ইমেইলটি পাঠানো হয়েছে, যার পরপরই ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সৌদি যুবরাজসহ আঞ্চলিক নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি সাময়িকভাবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি কমানো এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করার লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। ট্রাম্প এখন সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার কথা ভাবছেন। বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ যেসব স্থানে পারমাণবিক উপাদান বা সরঞ্জাম রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, সেখানে তীব্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে সমস্যা হলো, আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত অস্ত্র দিয়েও খুব বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ এসব স্থাপনা মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত। এগুলো ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে, যা ট্রাম্প এই মুহূর্তে চাইছেন না। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাই নতুন করে ঝুঁকি নিতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন।

এমন পরিস্থিতিতে আতশবাজির মতো একটি প্রতীকী হামলার কথাও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার মূল লক্ষ্য পূরণ না করেই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রতীকী বিজয় দাবি করতে পারবেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ডিআইএ মূল্যায়ন করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যে ধরনের বোমাবর্ষণ করছে, তাতে ইরানের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও সম্প্রতি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন যে, কেবল বিমান হামলা চালিয়ে ট্রাম্পের সব লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্পের সামনে সংঘাত বৃদ্ধির নানা বিকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছিল। এর মধ্যে একটি পরিকল্পনা ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারী বোমাবর্ষণ করা। যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের মতো প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কমে যাওয়া এবং পানি শোধনাগার বা সেতুর মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কায় ট্রাম্প ওই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup