প্রাচীন মিশরের বিস্ময়কর স্থাপত্যশৈলী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক অনন্য নিদর্শন ফের দেখল বিশ্ব। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে মিশরের আসওয়ান প্রদেশের ঐতিহাসিক আবু সিম্বেল মন্দিরে ফেরাউনের (দ্বিতীয় রামেসিস) মূর্তির মুখমণ্ডল আলোকিত করেছে সূর্যের সোনালি রশ্মি। এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাত হাজারেরও বেশি পর্যটক।
স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫৩ মিনিটে সূর্যের আলো মন্দিরের প্রবেশপথ পেরিয়ে প্রায় ৬০ মিটার ভেতরের উপাসনাকক্ষে পৌঁছায়। সেখানে থাকা চারটির মধ্যে দ্বিতীয় রামেসিস, দেবতা আমুন-রে এবং রে-হোরাখতির মূর্তিতে প্রায় ২০ মিনিট ধরে আলো পড়ে। তবে অন্ধকার ও পাতালের দেবতা প্তাহের মূর্তিটি অন্ধকারেই থেকে যায়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ২২ অক্টোবর দ্বিতীয় রামেসিসের জন্মদিন এবং ২২ ফেব্রুয়ারি তার সিংহাসনে আরোহণের দিন এই বিরল সূর্যালোকের ঘটনা ঘটে।
সূর্য উৎসব উপলক্ষে আবু সিম্বেল এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল মিশরীয় প্রশাসন। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মন্দিরের বাইরের প্রাঙ্গণে বড় পর্দা বসানো হয়। এছাড়া ১৭ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবেরও আয়োজন করা হয়। হাজার বছরের প্রাচীন এই বিস্ময় যেন প্রাচীন মিশরীয়দের অসাধারণ প্রকৌশল দক্ষতা ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন, যা আজও মানুষকে মুগ্ধ করে চলেছে।









