Long Popup (2)
সর্বশেষ

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের তালিকা প্রকাশ

Image 312700ProbashircityWebPopupUpdate

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় চালানো পাল্টা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে জানান, গত ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত টানা ১৫ দিনের এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার, জ্বালানি অবকাঠামো, ড্রোন ঘাঁটি এবং যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

আইআরজিসির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাতটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, তিনটি স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা, ছয়টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার এবং আটটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার। এ ছাড়া আকাশ ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ধরনের আরও অন্তত ২২টি রাডার ও একটি ট্যাকটিক্যাল রাডার কমপ্লেক্স ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সহায়তা ও রসদ খাতের মধ্যে ছয়টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, তিনটি লজিস্টিক ও সহায়তা কেন্দ্র, ১২টি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, ১৭টি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের গুদাম এবং ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

অপারেশনাল অবকাঠামো খাতের ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও তুলে ধরেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হামলায় ছয়টি এমকিউ-৯ ড্রোন বেস, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকরণ কেন্দ্র, আটটি নতুন ড্রোনসহ একটি আলাদা ড্রোন বেস এবং দুটি কমান্ড সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম, চারটি হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্ম, পাঁচটি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, চারটি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা কমপ্লেক্স এবং ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানা হয়েছে। তালিকায় অ্যামাজনের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ নজরদারি বিমানের বেস, জ্বালানি পাম্পিং স্টেশন ও জেটি, সিগন্যাল ও গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র এবং দূরনিয়ন্ত্রিত নৌযান সংরক্ষণের একটি ডিপোসহ বেশ কিছু স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমান সক্ষমতা খাতের ক্ষতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, মাটিতে থাকা অবস্থায় ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১৭টি নজরদারি ও অভিযান পরিচালনাকারী ড্রোন আঘাতের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে আটটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন। এ ছাড়া সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরে থাকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ নজরদারি বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান, আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, চারটি ভারী হেলিকপ্টার এবং গুদামে থাকা ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আইআরজিসির দাবি, এসব ধারাবাহিক ও সুনির্দিষ্ট হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সহজেই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে আইআরজিসির প্রকাশিত এই তালিকা ও সার্বিক দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate