মাঝআকাশে চলন্ত বিমানের জানালার কাচ ভাঙার অভিযোগে এক যাত্রীকে উড়োজাহাজ অবতরণের পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। চণ্ডীগড় থেকে নতুন দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই-১৮৭৯’ ফ্লাইটে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই যাত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উচ্ছৃঙ্খল’ ঘোষণা করা এবং তাঁর ওপর স্থায়ী ‘নো-ফ্লাই’ বা বিমান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে কি না, তা নির্ধারণে বিষয়টি বিমানসংস্থার অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি যখন দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ওই যাত্রী কেবিন ক্রুদের বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে জানালার ভেতরের কাচ ভেঙে ফেলেন। ফ্লাইট চলাকালীন ক্রু সদস্যরা তাঁকে মৌখিকভাবে এবং লিখিতভাবে সতর্ক করলেও তিনি চরম উচ্ছৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক আচরণ বজায় রাখেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ককপিটের পাইলট ও ক্রু দল ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) মেনে বিমানটি অবতরণের আগেই বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করার পরপরই সিআইএসএফ বা বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তাঁকে সোপর্দ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানের ভেতরে ক্রুদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করলেও নিরাপত্তা কর্মীদের জালে জড়ানোর পর ওই যাত্রী বারবার নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে থাকেন।
ঝুঁকিপূর্ণ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এয়ার ইন্ডিয়ার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্রুদের বিচক্ষণতায় ফ্লাইটের কোনো পর্যায়েই যাত্রী, ক্রু কিংবা বিমানের সার্বিক নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও (ডিজিসিএ) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, উড়োজাহাজে সহযাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো যেকোনো উগ্র বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে এয়ার ইন্ডিয়া সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করে না।
আরও
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল আইন (সিএআর, ২০১৭) অনুযায়ী, বিমানে যাত্রীদের এ ধরনের সব অপরাধমূলক ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ পর্যালোচনার জন্য বিমানসংস্থার একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ কমিটি রয়েছে। এই কমিটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধের ধরন এবং ওই যাত্রীর ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নির্ধারণ করবে। তবে কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ চাইলে অভিযুক্ত যাত্রীর ওপর সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। মাঝআকাশে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আকাশপথের যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টিকে আবারও বড় ধরনের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।









