Long Popup (2)
সর্বশেষ

লুকিয়ে রাখা অস্ত্র বের করছে ইরান, যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও

1769594887 f3ccdd27d2000e3f9255a7e3e2c48800ProbashircityWebPopupUpdate

মধ্যপ্রাচ্যে ফের বেজে উঠছে যুদ্ধের দামামা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি থেকে বেরিয়ে নতুন করে যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য তেহরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করছে। এরই অংশ হিসেবে সবশেষ যুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রগুলোও বের করে আনছে দেশটি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য আইনি ও কৌশলগত পথ পরিষ্কার করছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আনা ইরানে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার একটি প্রস্তাব ৪৭-৫০ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। এর পাশাপাশি আজ শুক্রবার (১ মে) ট্রাম্পের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর থাকা একটি আইনি বাধ্যবাধকতার সময়সীমাও শেষ হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি এই সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জার্মানির পর এবার ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী বার্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের রণপ্রস্তুতি জোরদার করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত যুদ্ধজাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় সামরিক রসদ সরবরাহ করছে। গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’-এ বিপুল পরিমাণ রসদ তোলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বর্তমানে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, যেখানে সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করবেন।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে আরেকটি সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা দ্রুত দানা বাঁধলেও, শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ইরানে সরাসরি হামলার দিকে এগোবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের ওপর। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় হোয়াইট হাউস এই সফরকে বিশেষ ‘অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে। এর আগে যুদ্ধের কারণে একবার এই সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয়বার পেছাতে আগ্রহী নয়। তাই চীন সফরের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ মিলিয়েই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate