অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে মালয়েশিয়া। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশজুড়ে পরিচালিত ১০ হাজার ৩৭৪টি অভিযানে বিভিন্ন দেশের ৩৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এই ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে সন্দেহভাজন হিসেবে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাঁদের মধ্য থেকে ৩৭ হাজার ৩১৩ জনকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে এবারের অভিযানে শুধু অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না কর্তৃপক্ষ। বরং যাঁরা এসব অবৈধ অভিবাসীদের কাজে নিয়োগ দিচ্ছেন, আশ্রয় দিচ্ছেন বা তাঁদের উপস্থিতি থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সস্তায় শ্রম পাওয়ার লোভে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের প্রবণতাই এই সংকটকে দীর্ঘদিন ধরে জিইয়ে রেখেছে। তাই অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি তাঁদের আশ্রয় ও সুবিধা দেওয়া ব্যক্তিদেরও শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
আরও
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় ও কাজ দেওয়ার অপরাধে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই ১ হাজার ৮০৯ জন নিয়োগকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জনই মালয়েশিয়ার নাগরিক। এর আগে ২০২৩ সালে এমন অপরাধে ৩৪৬ জন এবং ২০২৪ সালে ১ হাজার ৮৫৯ জন নিয়োগকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আর ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ২০২ জনে। কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপে দেশটিতে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসী ও তাঁদের নিয়োগকর্তাদের মধ্যে এখন ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।










