মালয়েশিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটিতে ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি)। সংগঠনটির মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কর্মীদের দক্ষতা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে নতুন এই মজুরি কাঠামো অত্যন্ত জরুরি। সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামার এক প্রতিবেদনে এমটিইউসির মহাসচিব কামারুল বাহারিন মনসুরের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এমটিইউসির মহাসচিব কামারুল বাহারিন মনসুর জানান, আবাসন, খাদ্য, পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় মাসিক ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম মজুরি একটি যৌক্তিক হার। তিনি মনে করেন, ন্যূনতম মজুরির কাঠামো শুধু নিম্ন আয়ের কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মধ্যম আয়ের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা উচিত। এর মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্ম-অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির একটি সুসংগঠিত ধারা তৈরি হবে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্পন্ন কর্মী আকৃষ্ট করতে সহায়তা করবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। সুষ্ঠু মজুরি কাঠামোর অভাবে এখনো অনেক কর্মী ১০ বছর চাকরি করার পরও মাসে মাত্র ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বেতন পাচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জাতীয় মজুরি পরামর্শ আইন অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় প্রতি দুই বছর অন্তর ন্যূনতম মজুরি পুনর্বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ায় নতুন হার ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কামারুল বাহারিন উল্লেখ করেন, নতুন হার কার্যকরের আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি থাকায় দ্রুত এই বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে শ্রমিকদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। এদিকে, গত মঙ্গলবার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান জানিয়েছেন, বর্তমানে মাসিক ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম মজুরি বহাল রাখা হবে নাকি তা বাড়ানো হবে, সরকার নিবিড়ভাবে সে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।











