মালয়েশিয়ায় মানব পাচার চক্র ‘গ্যাং করিম’–এর একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৮ জন বাংলাদেশিসহ ১৯ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এক পাকিস্তানি নাগরিকও রয়েছেন। গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত আটটার দিকে সেলাঙ্গর রাজ্যের চেরাস এলাকার একটি দোকানঘরের ওপরের তলায় পরিচালিত ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি ও ওই পাকিস্তানি নাগরিক মানব পাচারের শিকার হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া চক্রটির সদস্য হিসেবে আটক করা হয়েছে আরও তিন বাংলাদেশি পুরুষকে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা পাচারকারীদের সহযোগী এবং ওই ট্রানজিট হাউসের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন। এমনকি এই তিনজনের একজনকে মালয়েশিয়ায় চক্রটির মূল সমন্বয়কারী হিসেবেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আটক অভিবাসীরা ওই দিনই মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলের একটি অবৈধ সীমান্তপথ দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে তাঁদের সড়কপথে ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে নিয়ে আসা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সক্রিয় থাকা এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানব পাচার করে আসছিল। পাচার হওয়া অভিবাসীদের প্রথমে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হতো এবং সেখান থেকে দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যে প্রবেশ করানো হতো।
আরও
চক্রটি মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত। কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, এখন পর্যন্ত তাদের অবৈধ আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ রিঙ্গিতের কাছাকাছি। অভিযানে চক্রটির ব্যবহৃত একটি সেডান গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। ২০ থেকে ৫২ বছর বয়সী আটক এসব ব্যক্তিকে বর্তমানে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭–এর আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে নিবিড় তদন্ত চলছে। দেশের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাদের এই কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।









