বিষধর সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে বেজি ছেড়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে সাপ নিধনের সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত চরম পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাপের সংখ্যা কমার বদলে বেজির আগ্রাসী শিকারে পরিণত হয়ে দ্বীপটির বিরল প্রজাতির অনেক প্রাণী বিলুপ্তির মুখে পড়ে যায়। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা এক চিরুনি অভিযানের পর সম্প্রতি ওই দ্বীপটিকে সম্পূর্ণ বেজিমুক্ত ঘোষণা করেছে জাপান সরকার। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানা গেছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এই বেজিগুলোর আদি নিবাস মূলত বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। ১৯১০ সালে গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল থেকে কিছু ছোট ভারতীয় বেজি জাপানের ওকিনাওয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে ১৯৭৯ সালে সেখান থেকেই প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমা দ্বীপে ছাড়া হয়। মূল লক্ষ্য ছিল, স্থানীয় বিষধর ‘হাবু’ সাপের উৎপাত কমানো। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই পরিকল্পনায় একটি বড় গলদ ছিল। বেজি মূলত দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে, আর হাবু সাপ নিশাচর। ফলে সাপ ও বেজির মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল একেবারেই ক্ষীণ। এদিকে সাপের নাগাল না পেয়ে ক্ষুধার্ত বেজিরা তখন দ্বীপের স্থানীয় ও নিরীহ প্রাণীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালাতে শুরু করে।
দীর্ঘদিন বড় কোনো শিকারি প্রাণীর মুখোমুখি না হওয়ায় আমামি ওশিমার স্থানীয় প্রাণীদের আত্মরক্ষার ক্ষমতা ছিল খুবই দুর্বল। এই সুযোগে বেজিরা বিরল আমামি খরগোশ, মাটিতে বাসা বাঁধা পাখি, স্থানীয় ব্যাঙ ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ নির্বিচারে শিকার করতে থাকে। একপর্যায়ে মাত্র ৩০টি বেজি বংশবিস্তার করে প্রায় ১০ হাজারে উন্নীত হয় এবং দ্বীপের প্রাণবৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বেজি নির্মূল কর্মসূচি হাতে নেয় জাপান সরকার এবং ২০০৫ সালে গঠন করা হয় ‘আমামি মঙ্গুজ বাস্টার্স’ নামে একটি বিশেষ দল। হাজার হাজার ফাঁদ, ক্যামেরা ও প্রশিক্ষিত কুকুরের সাহায্যে দীর্ঘ অভিযানে ৩২ হাজারের বেশি বেজি অপসারণ করা হয়। অবশেষে গত ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় দ্বীপটিকে সম্পূর্ণ বেজিমুক্ত ঘোষণা করে। এতে দীর্ঘ ৩১ বছরের হতাশা কাটিয়ে স্থানীয় প্রাণীগুলো পুনরায় প্রকৃতিতে ফিরতে শুরু করেছে।









